এডমিনঃ ১ম কথা হল, ৯০% সচিব এডমিন
থেকে হয়। শুধু পররাষ্ট্র সচিব ছাড়া সকল
সচিবই এডমিন থেকে নিয়োগের
ইতিহাস আছে। বর্তমানে কয়েকজন
মাত্র সচিব অন্য ক্যাডারের। তাই যারা
ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠতে চান
তাঁদের জন্য এডমিনই ভাল চয়েস। প্রথমে
একটি ডিসি অফিসে কাজ করতে হবে
সহকারী কমিশনার হিসেবে। ২/৩ বছর
সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা AC
(Land) এর দায়িত্ব পাবেন। এরপর
ইউএনও,এডিসি, ডিসি। পাশাপাশি
মন্ত্রণালয়েও সহকারী সচিব, উপসচিব…
হিসেবে অনেকে কর্মরত থাকেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টিং
হয়। তাই এডভেঞ্চার আছে, এটা এনজয়
করতে পারলে ভাল লাগবে। মানুষের
সাথে সরাসরি কাজ। তাই সত্যি যদি
আপনার ইচ্ছা থাকে, মানুষের জন্য কাজ
করবেন – সে সুযোগ এখানে আছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিস আলাদা হওয়ার
পরে এডমিন ক্যাডার নিয়ে অনেক
নেগেটিভ কথা শুনা গেছে। বিশেষত
আমরা যখন জয়েন করি, তখনই বিষয়টা শুরু
হইছিল। তাই অনেকের মাঝে হা-হুতাশ
ছিল। এখন কিন্তু সেটা শুনা যায় না
তেমন। তখন ভাবা হচ্ছিল
মেজিস্ট্রেসি বলতে কিছুই আর এডমিন
অফিসারদের থাকবে না। আসলে তো
তা নয়। যে কোন দেশেই শান্তি-
শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এডমিন
অফিসারদের বিকল্প নেই। একজন নন-
আর্মড অফিসার অর্ডার করবে, আর আর্মড-
পার্সনরা সেটা পালন করবে। এটাই যে
কোন সভ্য দেশের নিয়ম। তাই এখন
সরকারের প্রয়োজনে সহকারী
কমিশনারগণ নিয়মিতই ম্যাজিস্ট্রেসি
দায়িত্ব পালন করেন। মোবাইল কোর্টসহ
অনেক দায়িত্বই আপনি পাবেন। এরপর
পদোন্নতি ভীষণ স্লো – এমন কথা
এডমিনের নামে শুনা যায়। কথাটা
কিছুটা সত্য। তবে আপনারা যারা এখন
জয়েন করবেন, তাঁদের জন্য ভাল খবর
হচ্ছে – ২০১৯ সালের দিকে অনেক বড়
ব্যাচ রিটায়ার করবে। তখন প্রোমোশন
দ্রুত হবে বলে মনে হয়।
পুলিশঃ পুলিশকে সবার প্রয়োজন। তাই
সরকারী চাকরি করে পরিচিতজনের
কাছে কেন্দ্রবিন্দু হবার সৌভাগ্য এখন
পুলিশেরই সবচেয়ে বেশী। যে যাই বলুক,
আপনার মোবাইল নাম্বারটা সবার
আকাঙ্ক্ষিত হবেই। আর এই আকাঙ্ক্ষা
পূরণ করাও পুলিশ ক্যাডারদের পক্ষে
সম্ভব। কাউকে সরাসরি বিপদ থেকে
রক্ষা বা আইনি সহায়তা তাঁদের
হাতেই। তাই যারা মানুষকে সরাসরি
সাহায্য করতে চান, তাঁদের জন্য পুলিশ
হওয়াই আমাদের দেশে সবচেয়ে
উপযোগী। আর এই সৌভাগ্যের সাথে
ঝুঁকির কথাও একটু মাথায় রাখুন।
রাজনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে
আইনগত সকল সমস্যা পালনের জন্য ঝুঁকি
নেবার সাহসটুকু থাকতে হবে। আর ফিল্ড
লেভেলে কাজ করতে নেতা-
কর্মীদের ম্যানেজ করে দায়িত্ব
পালনের বিষয়টাও আছে। ট্রেনিং
শেষে পোস্টিং হলে এএসপিকে
সরকারী গাড়ি দেয়া হয় দায়িত্ব
পালনের জন্য, যেটা আর মাত্র দু-একটা
ক্যাডারে আছে। জাতিসংঘ
শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ
অফিসারদের অনেকেই সুযোগ পায়।
এতে বেশ ভাল আর্থিক সুবিধা পাওয়া
যায়, সাথে একটু ঝুঁকি তো আছেই।
আবার উপরের লেভেলে পোস্ট কম। তাই
উপরে পদোন্নতি একটু স্লো, তবে
আমাদের দেশে এসপিই অনেক বড় কিছু,
আর তাঁর উপরেরগুলোতো আছেই। মাঝে
মাঝে আপনার ব্যক্তিগত কোন দোষ না
থাকলেও সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের
গালি সরাসরি শুনতে হতে পারে। তবে
সেটা আপনার আড়ালে, সামনে পড়লে
মোবাইল নাম্বারই নিয়ে নেবে।
পুলিশের এএসপিদের অধীনে কনস্টেবল
থেকে শুরু করে অনেক পুলিশ সদস্য
থাকে, তাই দেশের যেখানেই
যাবেন, লজিস্টিক সাপোর্ট থাকবে।
অডিটঃ অডিটে অবশ্য সব সময়ই অল্প ক’টা
পোস্ট থাকে। আর যেহেতু পোস্ট অল্প,
তাই পদোন্নতি দ্রুত। মোটামুটি
বিভাগীয় শহরগুলিতেই পোস্টিং।
অডিট হচ্ছে অন্যের ভুল, অনিয়ম এসব ধরা।
তাই যে অফিসেই অডিট করবেন, বেশ
সম্মানই পাবেন।
ট্যাক্স ও কাস্টমসঃ ৩৫-তম বিসিএসের
সার্কুলারে এই ২টা ক্যাডারে কোন পদ
নেই। এটা আপনাদের জন্য দুর্ভাগ্যেরই
বিষয়। আগে এত অফিসার নিয়ে
নিয়েছে, এখন আর খালি নেই। তাই
এখানে এগুলো নিয়ে কিছু বললাম না।
ইকনমিকঃ সচিবালয়ে বা পরিকল্পনা
কমিশনে অফিস। তাই ঢাকায়
পোস্টিং। ইকোনোমিক ক্যাডারের
অফিসারগণ প্লানিংয়ের কাজ করেন।
তাই যারা রিসার্চ রিলেটেক কাজে
ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য এটা ভাল চয়েস।
হয়তো রিসার্চমুখী বলেই ইকনমিক
ক্যাডারের অফিসারদের একটা বড়
অংশ বিদেশে ডেপুটেশান বা
শিক্ষাছুটিতে পড়াশুনা করে। আবার
অনেকদিন ধরেই ইকনমিক ক্যাডারকে
এডমিনের সাথে যুক্ত করে ফেলবে
বলে আলোচনা হচ্ছে। মানে এটা হলে
ইকনমিক ক্যাডাররা এডমিন হয়ে যাবে।
তবে এটা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে।
তাই এখন এসব জেনে লাভ নেই। কাজ
প্রোজেক্টের প্লানিং। তবে উপরের
দিকে পদন্নোতির সুযোগ একটু কম।
তথ্যঃ তথ্য ক্যাডারের অফিসারদের
কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজের
সুযোগ আসতে পারে। মন্ত্রণালয়ে
মাননীয় মন্ত্রীগণের Public Relations officer
(PRO), বিদেশে কয়েকটা দূতাবাসে
তথ্য কর্মকর্তা, এমনকি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির
অফিসেও তথ্য কর্মকর্তা হতে পারেন।
তবে এগুলো সাধারণত স্বল্পকালীন হয়।
পররাষ্ট্রঃ এটাতে আমি চাকরি করি,
তাই ঢাক পিটানো হয়ে যাবে কিনা
ভাবছি। যাই হোক, ফরেনে চাকরি
হলে আপনি সেগুন বাগিচায় পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে যোগ দিবেন। শুধু বাসা
থেকে অফিসে আসা আর ৫টায় অফিস
থেকে বের হতে পারলে বাসায়
ফেরা এ দুই সময় অফিসের মাইক্রো
পাবেন। দুই বছর পূর্ণ হলে আপনি
বিদেশে দূতাবাসে পোস্টিংয়ের
জন্য উপযুক্ত বলে ধরা হয়। তবে পোস্টিং
হতে ৩ বছরের মত লাগে। কেউ কেউ
নিজেই দেরী করে বিদেশে
পোস্টিং নেয়। এক্ষেত্রে আমার
ব্যাচের অভিজ্ঞতা এরকম – অফিসার
১৩ জন। এর মধ্যে ২ জন যোগদানের দুই বছর
পরেই পোস্টিংয়ে চলে গেছে। ৪ জন
ডেপুটেশানে বিদেশে পড়ছে (১ জন
যুক্তরাষ্ট্রে, ৩ জন অস্ট্রেলিয়ায়)। তিন
বছরের কাছাকাছি সময়ে আরো ৪ জন
পোস্টিংয়ে গেছে। বাকি ৩ জন
নিজেরা পোস্টিংয়ে যায়নি,
তাঁদের সুযোগ এসেছিল। বিদেশে
পোস্টিং হলে ফরেন ভাতা পাবেন।
যা পাওয়া যায়, তাতে বিদেশে
বিলাসিতা করা যায়না, সংসার
চলে। পদোন্নতির সাথে সাথে
এলাউন্স বাড়বে। পোস্টিংয়ে থাকা
কালে মোটা দাগে বললে বাসা
ভাড়া, ২ জন ছেলেমেয়ের পড়াশুনার
খরচ, পরিবারের চিকিৎসার ৯০% খরচ
সরকার বহন করে। পোস্টিংয়ে থাকা
অবস্থায় যে কোন দেশের
ডিপ্লোমেটরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি
কিনতে পারে। তবে গাড়ি দেশে
আনতে হলে ট্যাক্স দিতে হবে।
অফিসার অল্প, তাই কাজের অনেক চাপ।
আবার চাকরিই যেহেতু ফরেনে, তাই
অনেক বিদেশে ঘুরতে পারবেন।
পোস্টিংয়ের আগেও ট্রেনিং,
কনফারেন্স ইত্যাদিতে বিদেশে
যাবার সুযোগ আসবে অনেকের। তবে
পরিবার ফেলে দীর্ঘদিন বিদেশে
থাকা কষ্টকরও বটে। আবার এক দেশে
পোস্টিং ৩ বছরের জন্য, এরপর অন্য দেশে
৩ বছর, পরের ৩ বছর ঢাকায়। এটা
জেনারেল পোস্টিং প্যাটার্ন। তাই
এই ঘন ঘন চেঞ্জ নিজের এবং
ছেলেমেয়ের জন্য ঝামেলার।
অন্যদিকে ফরেনে অফিসার অল্প বলে
পদোন্নতির সুযোগ অন্য চাকরি থেকে
ভাল। আমি নিজেই দেখেছি যে, একই
বিসিএসের ফরেনের অফিসার জয়েন
সেক্রেটারি আর অন্য ক্যাডারের
অফিসার সিনিয়র এসিট্যান্ট
সেক্রেটারি ছিল। এতদিন এটা
প্রচলিত ছিল যে ফরেনে জয়েন করলে
সে Ambassador হয়ই। ভবিষ্যতে কি হবে
জানি না। তবে এখন পর্যন্ত প্রায়
প্রতিটি অফিসারই সময় হলে Ambassador
হয়েছে। রাষ্ট্রদূত দেশকে প্রতিনিধিত্ব
করে, তাই সম্মান মনে হয় একটু পাবেন।
বেশ হোমরা-চোমরা লোকজনের
সাথে মাঝেই দেখা বা মিটিং
সিটিং হবে। তবে দেশে
রাস্তাঘাটে আপনাকে কেউ চিনবে
না।
ক’দিন আগে কয়েকজন তরুণ সাহিত্যিক
কয়েকটা লেখা দিয়ে সমালোচনা
করতে বলল। কিন্তু সমালোচনা করার
পরে তাঁরা আমার উপর ক্ষেপে গেল।
আমি নাকি সবাইরে প্রশংসা করে
গেছি। আমার মন্তব্য থেকে তাঁরা
সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কী আর
করা – খারাপ বলতে মনে হয় একটু বেশি
সাহস লাগে। যাই হোক, সেই বিষয়টা
মাথায় রেখে, এখানে আমি একজন
বিসিএস পরীক্ষার্থী যেভাবে
ভাবে, সেভাবেই বিভিন্ন
ক্যাডারের কিছু বিষয় দিতে চেষ্টা
করলাম। এগুলো শুধুই তথ্য। অন্যদের কথাও
শুনুন। এরপর নিজের বিচার দিয়ে ভাবুন –
কোন কাজটা আপনি করতে চান।
কোনটায় আনন্দ পাবেন। সেভাবেই
চয়েস দিন। জব এনজয় না করতে পারলে
ক্যারিয়ারকে ভালবাসতে পারবেন
না। তাই আনন্দ খুঁজে পাওয়াই হোক
চয়েসের ভিত্তি। এবার দুটা প্রশ্ন,
যেগুলো মেসেজে অনেকবার এসেছে
–
সার্কুলারে কোন একটা ক্যাডারে
অল্প ক’টা পোস্ট আছে। তো সেটা কি
চয়েসে দিব?
আমার ২৮-তম বিসিএস-এর চয়েস
নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখি অডিটে
মাত্র ২/৩ পোস্ট। তো বন্ধু বলল, এটা
চয়েসেই দিবে না। কোটা বাদ দিলে
১/২ পোস্ট – সেটা চয়েসে দিয়ে কী
হবে? এটা একেবারেই ভুল কথা। পোস্ট
বেশি থাক আর কম থাক নিজে যেই
চাকরিটা আগে করতে চান সেভাবেই
চয়েস দিন। আর পোস্ট পরবর্তীতে
বাড়াতে বা কমাতে পারে।
সাধারণত কমায় না। কখনও কখনও বাড়ায়।
তাই যেসব ক্যাডারের সার্কুলার
হয়েছে, সেগুলোতে আপনার পছন্দমত
সিরিয়ালে চয়েস দিয়ে দিন।
মোট কয়টা চয়েস দিব?
আমার অভিমত হল – যেই চাকরিগুলো
হলে আপনি অবশ্যই করবেন, শুধু সেগুলোই
চয়েস দিন। এক্ষেত্রে ২টা ইস্যু। (১)
যারা বিসিএসে যে কোন ক্যাডার
হলেই চাকরি করবেন, তাঁরা সার্কুলার
দেখে যেগুলোতে এপ্লাই করতে
পারবেন, সবগুলো চয়েস দিয়ে দিন। (২)
আর যারা মনে করেন – কয়েকটা
ক্যাডার না হলে আসলেই চাকরি
করবেন না, তাঁরা প্লিস অন্য ক্যাডার
চয়েস দিয়েন না। চাকরি হল আর আপনি
জয়েন করলেন না বা কিছুদিন পরে
ছেড়ে দিলেন, সেটা সবার জন্য
খারাপ। দেশের জন্যও খারাপ।
তখন আমার ২৮-তম এর ফাইনাল রেজাল্ট
ও মেডিকেল হয়ে গেছে। কিন্তু
গেজেট তখনও হয়নি। সেই সময় ২৯-তম
বিসিএসের ভাইভা শুরু হয়ে গেল। এখন
২৮ আর ২৯ দুটোতেই আমার ফার্স্ট চয়েস
ফরেন। আমি ২৯-তমের ভাইভা দিতেই
গেলাম না। ভাবলাম – একটা পোস্ট নষ্ট
করব কেন। আমার পরিচিত বেশ
কয়েকজনকে দেখলাম – ২৮তমে ফার্স্ট
চয়েস পেয়েও আবার ২৯-এ ভাইভা
দিলেন। বললেন, তখনও গেজেট হয়নি।
কী হয় কিছু বলা যায় না। রিস্ক তো
আছেই। যাই হোক, তাঁরা বেশি
সতর্কতামূলকভাবে এটা করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে এটা দোষের নয়।
আইনসিদ্ধও বটে। কিন্তু যেটা হয়েছে,
অনেকেই ২বার চাকরি পেয়েছে। আর
দ্বিতীয়বার জয়েন করেনি। সে
পোস্টগুলো ফাঁকা গেছে। কিছু নাকি
কোটা থেকে পুরণ করেছে। এতে
সরকারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও
অনেক পোস্ট খালিই থেকেছে। আর
কিছু যোগ্য লোক চাকরি পায়নি।
হয়তো তাঁদের বয়স চলে গেছে। তাই
আপনি যে চাকরিটা পেলে আসলেই
করবেন, শুধু সেটাই চয়েস দিন। তবে
যারা ক্যাডার চেঞ্জ করতে আবার
পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য ঠিকই
আছে।
সবার জন্য অব্যয় অনিন্দ্য’র শুভকামনা।
সুজন দেবনাথ
২৮ তম বিসিএস
বিসিএস(পররাষ্ট্র)
সহকারী সচিব,বাংলাদেশ পররাষ্ট্র
মন্ত্রনালয়।
Thursday, December 17, 2015
Monday, December 7, 2015
BCS tips english @sushanta paul

ফেসবুকে স্ট্যাটাস, কমেন্ট, চ্যাটিং
করুন ইংরেজিতে
১৩ নভেম্বর, ২০১৫
শুরু হচ্ছে বিসিএস ৩৬তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।
এই পরীক্ষার নানা দিক নিয়ে চাকরিবাকরিতে
নিয়মিত পরামর্শ দেবেন ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায়
সম্মিলিতভাবে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান
অধিকারী সুশান্ত পাল। এবারে থাকছে
ইংরেজি নিয়ে।
দুই ধরনের কাজে কখনো ক্লান্তি আসে না:
এক, যে কাজটি করতে আপনি ভালোবাসেন। দুই,
যে কাজটি না করলে আপনার অস্তিত্বই অর্থহীন
হয়ে পড়বে।চাকরির জন্য পড়াশোনা করাটাকে
যদি আমি দ্বিতীয় ধরনের কাজের মধ্যে ফেলে
দিই। তবে বলব, বিসিএস প্রিলিমিনারি
পরীক্ষার জন্য এখনো হাতে যে সময়টা আছে, সে
সময়ে যদি আপনি দৈনিক গড়ে ১৫ ঘণ্টা ঠিকমতো
ফাঁকি না দিয়ে পড়েন, তবে আপনি প্রিলি পাস
করবেনই। আপনার প্রস্তুতি শূন্যের কোঠায়, এটা
ধরে নিয়ে আমি আপনার জন্য প্রথম আলোতে
লিখছি।
এ সময়ে নিজের ওপর সর্বোচ্চ যতটুকু চাপ দেওয়া
যায়, ততটুকু চাপ দিয়ে পড়াশোনা করুন। শত শত
ইংরেজির প্রশ্ন সমাধান করুন, যেগুলো বিভিন্ন
চাকরি কিংবা ভার্সিটির নানান ভর্তি
পরীক্ষায় এসেছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর
ইন্টারনেটের বিভিন্ন গ্রামার ফোরাম,
ডিকশনারি, গ্রামার এবং ইউসেজের বই, বিভিন্ন
আন্তর্জাতিক মানের গ্রামার বই দেখে নিশ্চিত
হয়ে সমাধান করুন। গাইডের উত্তরকে সব সময়ই
বিশ্বাস করবেন না। কারণ, গাইড লেখকদের
জানার দৌড় খুব বেশি নয়। একটা প্রশ্নকে চারটা
প্রশ্নের সূতিকাগার বানান। যেটা উত্তর, সেটা
ছাড়াও বাকি তিনটা অপশন নিয়েও পড়াশোনা
করে ফেলুন।
নিচের কোনো বাক্যটি ভুল?
All the faith he had had had had no effect on the outcome of
his life.
One morning I shot an elephant in my pajamas. How he got
into my pajamas I’ll never know.
The complex houses married and single soldiers and their
families.
The man the professor the student has studies Rome.
The rat the cat the dog chased killed ate the malt.
দেখলে মনে হয় না, সব কটাই ভুল? মজার ব্যাপার
হলো, কোনোটিই ভুল নয়। এটা বুঝতে গ্রামারের
সঙ্গে কমনসেন্সও লাগে। আর কমনসেন্স ভালো
করার জন্য অনেক অনেক বেশি প্র্যাকটিসের
কোনো বিকল্প নেই।
বিসিএস প্রিলির ইংরেজির জন্য কিছু পরামর্শ
দিচ্ছি:
১. ফেসবুকে একটু বড় বড় স্ট্যাটাস, কমেন্ট লিখুন আর
চ্যাটিং করুন সহজ ইংরেজিতে। প্রতিদিন দু-
একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয়কে অনুবাদ
করুন। কাজটি করাটা কষ্টকর, কিন্তু এটি
ট্রান্সলেশন আর ভোকাবুলারিতে খুবই কাজে
দেবে। সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুর ওপর আর্টিকেল আর
সম্পাদকের কাছে পত্র অর্থ বুঝে এবং কাগজে
লিখে লিখে সময় নিয়ে পড়ুন। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ/ইএমবিএ ভর্তি
পরীক্ষার আগের বছরের প্রশ্নগুলো থেকে
সিনোনিম-অ্যান্টোনিম পার্টটা সলভ করলে
কাজে আসবে।
২. কয়েকটি গাইড বই এবং জব সল্যুশন থেকে
প্র্যাকটিস করুন লিখে লিখে।
৩. লিটারেচার পার্টে দু-একটি প্রশ্ন আসে,
যেগুলোর উত্তর যাঁরা ইংরেজিতে অনার্স-
মাস্টার্স, তাঁরাও পারবেন না। নেগেটিভ
মার্কিং হয় এমন কম্পিটিটিভ পরীক্ষার নিয়মই
হলো, সব কটার উত্তর করা যাবে না। আগের
বিসিএস পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন+জব সল্যুশন+গাইড বই
আর সঙ্গে ইন্টারনেটে ইংলিশ লিটারেচার
বেসিকস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে কাজে
আসবে। বিভিন্ন কমন লিটারেরি টার্মস সম্পর্কে
পড়াশোনা করে নিন।
৪. গ্রামারের প্রশ্নগুলো পড়ার সময় যেসব প্রশ্নের
উত্তরে কনফিউশন থাকবে, সেসব প্রশ্নের উত্তরের
কনফিউশন দূর করার দায়িত্বটা ডিকশনারিকে
দিয়ে দিন। যেমন, Die শব্দটির পর বিভিন্ন Preposition
বসে। আপনি ডিকশনারির Die এন্ট্রিটাতে গিয়ে
যে উদাহরণগুলো দেওয়া আছে, সেগুলো দেখে
কোন ক্ষেত্রে কোনটি বসে, এটি লিখে লিখে
শিখলে ভুলে যাওয়ার কথা না।
৫. Analogyতে যে Word Pair দেওয়া থাকে, সে দুটি
দিয়ে একটা সহজ বাংলা বাক্য গঠন করুন।
অপশনগুলোর মধ্যে যে জোড়া সে বাক্যটির সঙ্গে
পুরোপুরি মিলে যায়, সেটিই উত্তর।
৬. ইংরেজির ক্ষেত্রে আগে গ্রামার শিখে
প্র্যাকটিস করতে যাবেন না, প্র্যাকটিস করতে
করতেই গ্রামার শিখুন।
৭. গ্রামার আর ল্যাংগুয়েজ সেন্স ডেভেলপ
করতে সহজ কিছু ইংরেজি বইও পড়তে পারেন।
প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে হ্যারি পটার
সিরিজের বইগুলোর ১৫ পৃষ্ঠা করে পড়ে দেখবেন
নাকি কী হয়!
৮. ৫টি করে নতুন শব্দ শিখে প্রতিটি দিয়ে ৩টা
করে বাক্য লিখুন। প্রতিদিন কী কী করলেন,
দিনের শেষে সহজ ইংরেজিতে অন্তত ৩ পৃষ্ঠা
লিখে ফেলুন।
ইংরেজিতে ভালো করতে হলে একজন নারীর
প্রেমে আপনাকে পড়তেই হবে; সে নারী
ডিকশনারি। ইংলিশ ফর দ্য কম্পিটিটিভ এক্জামস্,
আ প্যাসেজ টু দ্য ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ, অক্সফোর্ড
অ্যাডভান্সড লার্নারস ডিকশনারি, লংম্যান
ডিকশনারি অব কনটেম্পোরারি ইংলিশ,
সোয়ানের প্র্যাকটিক্যাল ইংলিশ ইউসেজ,
ব্যারনস গ্রামার, অ্যালানের লিভিং ইংলিশ
স্ট্রাকচার, মারফির ইংলিশ গ্রামার ইন ইউজ,
ইস্টউডের অক্সফোর্ড প্র্যাকটিস গ্রামার,
ফিটিকাইডসের কমন মিসটেকস ইন ইংলিশসহ আরও
কিছু প্রামাণ্য বই হাতের কাছে রাখবেন।
ইংরেজি শিখতে হয় লিখে লিখে। বিসিএস
পরীক্ষায় ভালো করতে ইংরেজিতে খুব ভালো
হওয়ার দরকার নেই, তবে ভয় না পেয়ে বেশি
পরিশ্রম করে ইংরেজি শেখার মানসিকতা
থাকতে হবে। ভোকাবুলারির জন্য ম্যাক ক্যারথি
এবং ও’ডেলের ইংলিশ ভোকাবুলারি ইন ইউজ (সব
কটি খণ্ড), নর্ম্যান লুইসের ওয়ার্ড পাওয়ার মেইড
ইজিসহ দু–একটি দেশীয় বইও দেখতে পারেন।